চুকনগরে বাসে আগুন লাগার ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মী সহ ১২ জনের নামে মামলা

0
61

ডুমুরিয়া (খুলনা) সংবাদদাতা
খুলনার ডুমুরিয়ায় রাস্তার উপরে মাসাধিককাল ধরে ফেলে রাখা একটি বাসে আগুন লাগার ঘটনায় দুই ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি সাধারন সম্পাদক সহ ১২জনের নাম উল্লেখ সহ আরও ২৫/৩০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে মামলা হয়েছে থানায়।

উল্লেখ্য শনিবার দুপুর ২টার দিকে চুকনগর-যশোর মহাসড়কের নরনিয়া বাস টার্মিনালের সন্নিকটে উক্ত বাসটিতে কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয়। যার নং-(যশোর-ব-১১৫৯)। এ ঘটনায় বাসের মালিক নরনিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক সরদারের পুত্র আবাদুস সাত্তার বাদী হয়ে ওইদিন রাতে ডুমুরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০২ তারিখ-০১/১২/২০১৮। মামলার আসামীরা হলেন তার প্রতিবেশী খোকন মেল্যার পুত্র পল্লী চিকিৎসক আব্দুল গনি ও তার ভাই আব্দুল কাদের, জিন্নাত আলী শেখের পুত্র বিএনপি কর্মী ইউনুস আলী ও আনিসুর রহমান, খুলনা জেলা বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হবি, আটলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম ও তার পুত্র আবুল কালাম, সাধারন সম্পাদক সরদার দৌলত হোসেন, সাবেক ছাত্রদল নেতা সিরাজুল ইসলাম, মাগুরাঘোনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন, মালতিয়া গ্রামের কামরুল ইসলাম শেখ এবং জামায়াত কর্মী নরনিয়া গ্রামের জাকির হোসেন।

এ ঘটনায় পুলিশ শনিবারেই পল্লী চিকিৎসক আব্দুল গনিকে আটক করে। রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিল হোসেন বলেন, বাস মালিক থানায় এসে মামলা করেছে। মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আজ রোববার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে তার তদন্তকাজ শুরু করেছেন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মামলটির চার্জশীট দেয়া হবে এবং নিরীহ কাউকে অভিযুক্ত করা হবেনা। এদিকে বাসে আগুন লাগার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপি। উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোল্যা মোশাররফ হোসেন মফিজ বলেন, এঘটনায় কোনভাবেই আমাদেরনেতাকর্মীরা জড়িত নয়, আসন্ন নির্বাচনে ২৩দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা যাতে ঠিকমত কাজ করতে না পারে সেই লক্ষ্যেই এই মামলায় আমাদের নেতাকর্মীকে জড়ানো হয়েছে। এ মামলাটিও গায়েবী মামলার নামান্তর।

তিনি অবিলম্বে এই ষড়যন্ত্রমুলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট প্রতাপ কুমার রায় বলেন, এশটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে আমি এ ঘঁনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করি এবং যেসব নিরিহ ও রাজনৈতিক দলে নেতাকর্মীকে মামলায় আসামী করা হয়েছে তার তিব্র নিন্দা জানাই।

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্যাহ বলেন, মামলার বাদী যেহেতু আসামীদেও নাম দিয়েছে সেক্ষেত্রে পুলিশের কিছু করার নেই, তবে কোন নিরপরাধ ব্যক্তিকে যদি আসামী করা হয়ে থাকে সেটা অবশ্যই বিবেচনা করা হবে এবং তাদেরকে কোনভাবেই হয়রানী করা হবেনা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here