সিলেটকে হারিয়ে জয়ে ফিরলো রংপুর, হারের বৃত্তেই আটকা খুলনা

0
30

অবশেষে জ্বলে উঠলেন সাব্বির রহমান। তাঁর অসাধারণ একটি ইনিংসের ওপর ভর করে সিলেট সিক্সার্স পাহাড়সম ১৯৪ রান গড়ে। কিন্তু এই বিশাল লক্ষ্য টপকে গেল মাশরাফি বিন মুর্তজার রংপুর রাইডার্স। বিপিএলের এই ম্যাচে তারা চার উইকেটের দারুণ জয় তুলে নিয়েছে। আর দারুণ লড়াই করে আবারও হারতে হয়েছে খুলনা টাইটানসকে। গতকাল দিনের অপর ম্যাচে চিটাগাং ভাইকিংসের দেয়া ২১৫ রানের লক্ষে খেলতে নেমে খুলনা ১৮৮ রান করতে সমর্থ হয়। ফলে ২৬ রানের জয় পায় চিটাগাং। 
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এই ম্যাচ জিতে তিন ম্যাচ পর জয়ে ফিরেছে রংপুর রাইডার্স। দলের ঝুলিতে কোনো রান যোগ না হওয়ার আগে ওপেনার ক্রিস গেইল সাজঘরে ফিরলেও এলেক্স হেলস (৩৩), রাইলি রুশো (৬১) ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের (৩৪) মতো ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় গতবারের চ্যাম্পিয়নরা দারুণ জয় তুলে নিয়েছে। ফর্মের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে পেসার তাসকিন আহমেদ চার ওভার বল করে ৪২ রান দিয়ে চার উইকেট তুলে নিয়েও পারেননি দলের হার এড়াতে।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সিলেটেরও শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ১৩ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন ওপেনার লিটন দাস। এর পরই ব্যাট হাতে রুখে দাঁড়ান তরুণ এই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান। নিকোলাস পুরানকে সঙ্গে নিয়ে শুধু দলের ঝুলিটাকেই সমৃদ্ধ করেননি, অনেক দিন পর খেললেন দারুণ একটি ইনিংস। শফিউল ইসলামের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে সাব্বির খেলেন ৮৫ রানের চমৎকার একটি ইনিংস। ৫১ বল খরচায় পাঁচটি চার ও ছয়টি ছক্কায় ইনিংসটি সাজিয়েছেন তিনি। আর ২৭ বলে ৪৭ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি চার ওভার বল করে ৩১ রান দিয়ে দুই উইকেট নিয়েও পারেননি প্রতিপক্ষের বড় সংগ্রহের পথে বাধা হতে। এই জয়ে সাত ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে রংপুর তৃতীয় স্থানে উঠে গেছে। আর সিলেট সমান ম্যাচ খেলে চার পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।
দিনের অন্য ম্যাচে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে গড়েছে ২১৪ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে চিটাগাং ভাইকিংস। চিটাগংয়ের করা এই রান এবারের বিপিএলে সবচেয়ে বড় সংগ্রহ। রহিম (৫২), ইয়াসির আলী (৫৪) ও দাশুন শানাকাদের (৪২*) করা দারুণ কয়েকটি ইনিংসের ওপর ভর করে এই রান গড়া সম্ভব হয়েছে তাদের। এর আগে শুরুটাও দারুণ হয়েছিল চিটাগংয়ের। বরাবরের মতো আফগান ওপেনার মোহাম্মদ শেহজাদ দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন। তিনি ১৭ বলে ৩৩ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তাই দলের সংগ্রহ বড় করতে অন্যদের জন্য কাজটা সহজ হয়েছে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই উইকেট হারায় খুলনা। তবে প্রথম বলের এই ধাক্কা ধরে রাখেনি খুলনা। বরং বড় লক্ষ্য খেলতে নেমে পুরো ম্যাচেই চমক দেখিয়েছে। টেইলর, মাহমুদুল্লাহ, ওয়াইসের ব্যাটিংয়ে লড়াই জমিয়ে রাখে শেষ পর্যন্ত। তবে শেষ পর্যন্ত ২৬ রান দূরে থেকেই থেমে যায় খুলনার ইনিংস। খুলনার হয়ে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ মাত্র ২৬ বলে ৩টি বাউন্ডারি ও ৪টি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৫০ রান করেন। এছাড়া ওয়াইস ২০ বলে ৪০, টেইলর ১৬ বলে ২৮ তাইজুল ২০ বলে ২২ রান করেন। প্রতিপক্ষের আবু জায়েদ ৩টি এবং খালেদ আহমেদ ও দেলপত্রে ২টি করে উইকেট নেন। এ ম্যাচ হারের ফলে খুলনার বিদায় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেল। এই ম্যাচ দিয়ে শেষ হলো বিপিএলের সিলেট পর্ব। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here